বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩

একখান ইলিশ মাছের দামও অনেক বেশি !

"বাসায় আসার পথে মাছের বাজারের পাশ থেকে যাচ্ছিলাম ... উপচে পড়া ভিড় ... এক মাছওয়ালা বিরাট একটা ইলিশ মাছ সামনে রেখে বলতেছেঃ "খালি লন ৮০০০ !! এক দাম ৮০০০ !! কম নাই ৮০০০ !!"

এক লোক ঐখানেই মাছটা কিনে নিলো !!

দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে চিন্তা করলাম, একটা মাছ ধরা জালের দাম কত ?? ... মাছ ধরার কোচিং করতে কোর্স ফি কত ??

মাছওয়ালা ভাইকে ফ্রি পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই !! জালের দাম কত ??" ...উনি বললো, "বেশি না ... বানাইলে ২০০-৩০০ ও খরচ পড়ে না !!"

তারপর জিজ্ঞেস করলাম, "মাছ ধরার কোচিং এর ফি কত ??"

সে হেসে বললো, "আরে মামা !! এডি ২ দিন দেখাইয়া দিলেই শিখন যায়, আবার ট্যাকা কী ??"

আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞেস করলাম, "এই বৈশাখের মৌসুমে কত লাভ হইলো আপনার ??"

সে বললো, "গত এক সপ্তাহে মনে করেন ৩০ হাজারের মত ... আরো ২ দিনে আরো হইবো !!"

দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে চিন্তা করতেছিলাম, ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার পিছনে বাপ-মার লাখ টাকা খরচ করাইছি ... কোচিং করে হাজার হাজার টাকা খরচ করাইছি ... খরচের প্রসেস চলতেছে এখনো !!

মাছওয়ালা মামা আমার চিন্তিত চেহারা দেখে বলে, "মামা !! মাছ ধরা শিখ্যা ফালান ... পড়াশুনা কইরা কি হইবো ?? ... আমি কেলাস ফাইভ এর পর আর পড়ি নাইক্কা ... মাছ ধরছি আর বেইচ্যা দিছি আর ট্যাকা কামাইছি ... আগে গেরামে থাকতাম, কয়দিন আগে জমি কিনছি ঢাকায় !!"

মাছওয়ালা মামা আরো কিছু মনে হয় বলতেছিলো ... আমার কানে আর কিছু ঢুকলো না ... এক ফকিরের এক মাসে ৩০ হাজার টাকা কামানোর কাহিনী শুনছিলাম বেশ আগে ... এরপর আজকে শুনলাম মাছওয়ালার জমি কেনার কাহিনী !!

পড়াশুনা করে জীবনে করলামটা কী ??

ও খোদা মোরে তুইলা নাও,নইলে দড়ি ফালাও,বইয়া বইয়া উঠি

দড়ি না ফালায়ে মাছ ধরার জাল ফালাইলেও চলবে ... একখান ইলিশ মাছের দামও অনেক বেশি !!"

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ, রোজা নয়..!

ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ, রোজা ও কয়েকটি রীতিনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়

আজকাল ইসলাম কয়েকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সর্বস্ব ব্যাপার হয়ে দারিয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, রমযানের রোযা রাখা, হজ্ব করা, লম্বা জামা ও টুপি পড়া এবং জুম্মার নামাজের পর লম্বা দোয়া করা ইত্যাদিকেই বর্তমানে ইসলামের বিধিবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রাত্যহিক কার্যাবলীর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আমাদের পছন্দ ও অপছন্দ ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। টাকা, ফূর্তি এবং স্থুল বাসনা চরিতার্থ করাই এখন প্রত্যেকের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

ইসলাম প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের মত নয়। এটি মানবজাতির জন্য একটি ব্যবহারিক ও সামগ্রিক জীবনবিধান। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং জীবনযাপনের নিয়ম-কানুন তিনিই প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক সূরা আল মায়েদাহ্-তে বলেন-

‘আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনবিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।’

ইসলাম, জীবনযাপন উপযোগী ব্যাপক সমাধান ও আইন প্রনয়ন করেছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন সহ সবকিছুতেই ইসলাম সুস্পষ্ট আইন ও বিধান প্রদান করেছে। আল্লাহ আমাদের সাথে তার সম্পর্কের পদ্ধতি প্রদান করেছেন, যেমনঃ নামায, রোজা, হজ্ব ইত্যাদির; আবার ব্যক্তির নিজের সাথে নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পদ্ধতি প্রদান করেছেন, যেমন: মানুষ যা খায় এবং যা পড়ে সে সম্পর্কের বিধান। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলা সমাজে মানুষ অন্য মানুষের সাথে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপন করবে তা নিয়ন্ত্রণ করা জন্যও বিধান প্রণয়ন করেছেন; যেমন কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে, কিভাবে শাসনকার্য ও বিচার ব্যবস্থা চলবে এমনকি বিপরীত লিঙ্গের সাথে আচরণ কিরূপ হবে।

সূরা আন-নাহল এ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন-

‘এবং আমি আপনার নিকট এমন এক পুস্তক প্রকাশ করেছি যাতে সকল বিষয়ে সবিস্তারে বর্ননা করা হয়েছে।’

যেহেতু আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন-ইসলামকে পরিত্যাগ করেছি, সেহেতু আমাদের জীবনে ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও হতাশা ভয়ংকর রূপে দেখা দিয়েছে। মানুষের উদ্ভাবিত ধ্যান-ধারনা ও আইনকানুন আমাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে ইসলামকে কিছু আচার সর্বস্ব ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করার।

হেফাজতের ১৩ দফার একটিও যদি মেনে নেয়া হয় ...

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

দেশের তাবৎ বাম বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া রাজনীতিবিদরা হাহাকারে মাতম তুলছে যে হেফাজতের ১৩ দফার একটিও যদি মেনে নেয়া হয় তাহলে দেশ আফঘানিস্তান হয়ে যাবে। আর তাদের সেই মাতমের সাথে হুক্কা হুয়া রবে কিবোর্ডে ঝড় তুলছে কিছু ফেসবুকীয় সুশীল। যারা এই কথা বলছে তারা হেফাজতের ১৩ দফা নিশ্চয়ই পড়েছেন এবং আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করেছেন, তাই এই ১৩ দফা আর নতুন করে লিখতে চাইনা। এই ১৩ দফা বর্তমান বাংলাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব না এইটা আমিও স্বীকার করি। কোন দল আওয়ামীলীগ, বিএনপি এমনকি জামাতে ইসলামীও যদি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকত তাহলে এই ১৩ দফা সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়ন অন্তত এই মুহূর্তে সম্ভবপর হতনা। কারণ, এই সব গুলো দাবী তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব যখন একটি পরিপূর্ণ ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। আর, বিপ্লব কোন গাছের ফল নয় যে টুপ করে পেড়ে খেয়ে নিলাম। সামাজিক বিপ্লব, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষাব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি, মিডিয়া, জনগণের জীবনাচার ইত্যাদিকে পরিপূর্ণরুপে ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজানো ব্যতীত কখনোই একটি পরিপূর্ণ এবং 'sustainable' ইসলামী বিপ্লব সম্ভবপর নয়। এ এক বিস্তারিত আলোচনা, এর গভীরে ঢুকলামনা।

কিন্তু মহামান্য, আপনি বলবেন কি হেফাজতে ইসলামের কোন দফাটি কত নাম্বার দফাটি ইসলামের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক?? অথবা, একজন মুসলমান হিসেবে তাদের কোন দাবীটি আপনি অস্বীকার করতে পারেন?? আপনি যখন নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করেন, তখন এও মানেন যে ইসলাম শুধু মধ্যযুগের জন্য আসেনি। ইসলামের সুমহান নীতিমালা গুলো সর্বযুগেই সময় কাল ও স্থানের ঊর্ধ্বে। নাকি আপনি মনে করেন যে ইসলাম একুশ শতকে এসে অচল?? আপনি কি মনে করেন যে যেই মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে আপনাকে এবং এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, পরিচালনার নীতিমালা গুলো তাঁর চেয়ে তাঁর সৃষ্টি মানুষ বেশী জানেন?? ঝেড়ে কাশবেন জনাব। প্রত্যেকটি দাবী চিরন্তন, অবিনশ্বর এবং মানা উচিৎ, এটা স্বীকার আপনাকে করতেই হবে, যদি আপনি মুসলমান।

হেফাজতের একটি দাবী নিয়ে আমি একটু কথা বলতে চাই। তারা দাবী করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে খৃস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে জোর করে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণ বন্ধ করতে হবে। আমি দেখেছি বান্দরবানের একটি থানায় ২৭ টি খৃস্টান এন
জিও কাজ করছে যাদের কার্যক্রম শুধুমাত্র পার্বত্য জেলায় সীমাবদ্ধ। ঐ এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী ঐ উপজেলার প্রায় ৪০% মানুষকে ওরা মিশনারিদের মাধ্যমে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিত করেছে। ব্যাোম নামে একটি সম্প্রদায় আছে যাদের পুরো সম্প্রদায়কে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়েছে। তাছাড়া ত্রিপুরা নামে আরও একটি সম্প্রদায় রয়েছে যাদের প্রায় ৫০% মানুষকে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়েছে। পুরো পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ উপজেলার চিত্র একই। সবথেকে বিস্ময়ের ব্যাপার হল, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য অঞ্চলে ইসলামিক ফাউন্ডেশানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা আমি জানিনা। পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরের পর বছর ধরে উপজাতি জনগোষ্ঠীকে খৃস্টান মিশনারীদের মাধ্যমে খৃস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করে, পার্বত্য অঞ্চলে একটি স্বাধীন খৃস্টান রাষ্ট্র গঠনের অপচেষ্টা এদেশের দেশপ্রেমিকের ভেকধারী বুদ্ধিজীবীরা জেনেও চুপ থেকেছে বছরের পর বছর।

হেফাজতে ইসলামীর এই দফাটি বাস্তবায়িত হলে স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশ কিভাবে আফঘানিস্তান হবে দেশপ্রেমের সোল এজেন্টরা ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ। অথবা কোথায় বিন্দুমাত্র এই দেশের অপকার হবে ব্যাখ্যা করবেন।

----------------ডাঃ মেহেদি


 হেফাজতের দাবী মানলে দেশ কি মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফিরে যাবে?
মঙ্গলবার, 09 এপ্রিল 2013 19:02 পরিচালক হিট সংখ্যা: 2

(একজন বিদগ্ধ পাঠকের প্রতিক্রিয়া)

হেফাজতে ইসলামীর দাবী মানা হলে দেশ মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফিরে যাবে। নারীর স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হবে। নারীরা কল-কারখানায় চাকুরী করতে পারবে না। শিা দীায় নারীরা মনোনিবেশ করতে পারবে না। এসব বলে দেশের কিছু বর্ণচোরা বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া কর্মী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন। হেফাজতের তেরটি দাবীর একটি দাবীকে নিয়ে তুমুল কান্ডকারখানা করার প্রয়াস পাচ্ছে। এই দাবীকে সামনে নিয়ে এত বেশী জোরালো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে করে বাকী দাবীগুলো সম্পর্কে মানুষ আগ্রহ বোধ না করে। আসুন হেফাজতে ইসলামীকে মধ্যযুগে ফিরে থেকে বিরত করার জন্য সেই দাবীটি নিয়ে পর্যালোচনা করা যাক। দাবীটি নিম্নরূপ।



ব্যক্তি ও বাক-স্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

শুরুতেই কিছু প্রশ্ন তাদের উদ্দেশ্যে, যারা মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফিরে যেতে চায় না:


১. ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতার নামে তারা বেহায়াপনা, অনাচার ও ব্যভিচার চায় কি না? তারা তাদের সমাজে ও পারিবারিক জীবনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ পরিবার পরিজন নিয়ে এসব আচরণ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন কিনা? যদি নিজেরা অনুশীলন করে থাকেন তাহলে কোন কথা নাই যদি না করে থাকেন তাহলে বিরোধিতা কেন করছেন? কোন মতলবে? পরিষ্কার করাটা আপনাদের দায়িত্বে বর্তায়!

২. প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধে বিচরণ করার সুযোগের জন্য আপনাদের এত আকাঙ্া কেন? আপনারা ব্যক্তি জীবনে নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের জন্য এমন একটি সমাজ কামনা করেন কিনা? যেখানে নিজেদের কন্যা পুত্ররা স্বাধীনতার নামে অবাধ বিচরণ করবে আর পিতা-মাতা হিসেবে তা তাকিয়ে উপভোগ করবেন? যদি কামনা করেন তাহলে আলাদা বিষয়, যদি কামনা না করেন তাহলে হেফাজতের দাবীর মাঝে অসঙ্গতি কি পেলেন?

৩. হেফাজতে ইসলামীর দাবী দ্বারা নিচের কথাগুলো প্রমাণিত হয়না, যে-


- তারা গার্মেন্টস এ নারী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করতে চায়।

- নারীরা স্কুল কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।

- নারীরা সমাজের উন্নয়নের কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।

- নারীরা চাকুরী করতে পারবে না। এবং

- নারীরা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে না।


৪. মোমবাতি প্রজ্বলন বাংলাদেশের কোন জাতিসত্ত্বার সংস্কৃতি নয়! বাংলাদেশের কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কৃষ্টি নয়! কেউ মাজারে, কেউ বাজারে মোমবাতি জ্বালায়। একদা জাতীয় সংসদ মোমবাতি জালিয়ে চলেছিল। বিদ্যুতের অভাবে কেউ বাড়ীতে মোমবাতি জ্বালায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে বিসিএস পরীা নিয়েছিল সরকার। এসব প্রয়োজন, বিপদে পড়ে জ্বালায়, কেউ তা অস্বীকার করে না। তবে সেটা সংস্কৃতির অংশ নয় হলফ করে বলা যায়। সেটাকে আইন করে বিতাড়িত করলে কিংবা অপছন্দ করলে কারো আহত হবার কারণ থাকে না। দাবী মানা কিংবা না মানা কারো ব্যাপার হতে পারে, তবে কেউ যদি নিষিদ্ধের দাবী তুলে তাহলে তা মধ্যযুগে ফিরে যাবার সাথে বায়বীয় তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়!


- আজ বাংলাদেশের নারীরা ইট ভাঙ্গার কাজ করছে।

- আজ বাংলাদেশের নারীরা রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করছে।

- আজ বাংলাদেশের নারীরা রিক্সা চালাচ্ছে।

- আজ বাংলাদেশের নারীরা মিল-কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছে।


এসব কাজ নারীর জন্য সম্মান বয়ে আনে না। বরং পুরুষেরা নারীদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার দিতে চায় না বলেই নারীরা এ জাতীয় কঠিন কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। এ জন্য সমাজ দায়ী, সরকার দায়ী এবং মানুষের মানসিকতা দায়ী। এসবের সাথে অবাধ মেলামেশার দাবীর যোগসূত্র কোথায়?

পেটের তাগিদে নারীরা যদি পুরুষের কাছে আসতেই হয়, সেটার নাম ‘অধিকার’।

নারীদের কে নারীর স্থানে কাজ করার সুযোগ না দেবার নাম, ‘অধিকারে হস্তপে’।

পুরুষ যদি তাদের অধিকার ফিরিয়ে না দেয় সেটার নাম ‘জুলুম’।

নারীর কাজের প্রতি পুরুষ, আর পুরুষের কাজের প্রতি নারীর আগ্রহ বোধের নাম ‘অবাধ্যতা’।

অবাধ্যতা যেখানে, বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা সেখানে, তাই নাগরিকেরা বিশৃঙ্খলা আর জুলুমের শিকার।

এসব ঘটনা মোটেই ইসলাম ধর্মের অনুশাসন কিংবা হেফাজতে ইসলামীর দাবীর কারণে হয়নি।

চিত্তের তাগিদে নারীরা যদি পুরুষের আছে আসে, সেটার নাম ‘বেহায়াপনা’।

চিত্ত সুখ পুরণার্থে পুরুষ যদি নারীর সাথে জড়িয়ে যায় সেটার নাম ‘অনাচার’।

চিত্ত সুখ পুরণার্থে যদি অন্যায়, অবৈধ ও অন্যায্য সুযোগ গ্রহণ করা হয় তার নাম ‘ব্যভিচার’।

চিত্ত সুখ পুরণার্থে যদি সমাজ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্মকে অবজ্ঞা করে তার নাম ‘অযাচার’।

যে সকল ব্যক্তিরা হেফাজতে ইসলামীর দাবির বিরোধিতা করছে তারা সবাই উপরের চারটি পর্যায়ের কোন একটির পর্যায়ভুক্ত। তাদের জ্ঞান, ধ্যান, ধারনা, বিদ্যা, বুদ্ধি, যুক্তি নারীকে ব্যবহার কেন্দ্রিক। তাদের পান্ডিত্যে একজন কিশোরী ও যুবতীর প্রতি যত আগ্রহ; একজন বৃদ্ধা, শিশু, বালিকার প্রতি ততোধিক অনাগ্রহ।

হেফাজতে ইসলামের এই দাবী পূরণ হলে দেশ মধ্যযুগে ফিরে যাবে না। বরং বলা চলে এই দাবী বাস্তবায়ন হলে নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে। ইসলাম পেটের অধিকার আগে সংরণ করে, তারপর পিটের অধিকার নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে। ইসলাম গার্মেন্টস, কল কারখানা, শিায় নারীদের অংশগ্রহণকে বাধা দিবে না। বরং সেখানে অসহায় নারীদের জন্য, নারী অভিভাবক দিয়ে নারীর অধিকার সুদৃঢ় করবে। নারী শ্রমিককে কর্ম হারা করা ইসলামের ল্য নয়, বরং তার কর্মত্রেকে উৎপাত, উত্ত্যক্ত ও কটূক্তি কারী থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হবে।

ইসলাম অবশ্যই নারী-পুরুষের জন্য যাতে আলাদা আলাদা কর্মত্রে তৈরি করা হয়, সে দাবী জানায়। আরব দেশেও নারীরা গাড়ী চালায়, ব্যবসা চালায়, চাকুরী করে, লেখাপড়া করে। সেটা নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণের মাধ্যমে নয়, বরং সম্মানজনক পৃথক ব্যবস্থায়। নারী পুরুষের অবাধ মেলা মেশায় না গিয়ে যেখানে সমাজ চালানোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে সেখানে, হেফাজতে ইসলামে দাবী ভুল হল কোথায়?

পরিশেষে: আমি হেফাজতে ইসলামীর কোন কর্মী নই, সমর্থক নই। তাদের কয়েকটি ধারার বিরোধিতা দেখে আমিও আগ্রহী হয়েছি পড়তে। বিস্তারিত পড়ার পর এই বিষয়ে লিখাটা আমার জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই লিখলাম, দায়িত্ব পালন করলাম, তবে অনেক কর্তব্য বাকী রয়েছে। হেফাজতে ইসলাম হউক আর জামায়াতে ইসলাম হউক যারা সরাসরি কোরআন আর হাদিসের দাবী বাস্তবায়ন করতে প্রচেষ্টা চালায়। একজন মুসলিম হিসেবে সে দাবীগুলোর পে কথা বলাও প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। যত নিন্দাবাদ আসুক, যত ভয় ভীতি আসুক, আসুন জাতিকে পরাশক্তির বেষ্টনী থেকে উদ্ধার কল্পে, একটি ইসলামী সমাজ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম বিশ্বাস পুরণার্থে এসব দাবীর পে কথা বলি। এটাই একজন প্রকৃত মুসলমানের দাবী এবং একজন দেশপ্রেমিক প্রকৃত নাগরিকের পরিচয়।

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৩

এই হাসিনা-খালেদা কখনই ইসলামের ভালো চায় নি...!?

শেখ হাসিনা বি.বি.সিকে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেছে, " . . . . আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।"

খুবই স্বাভাবিক! পূর্ব পরিকল্পিত এই পরিস্থিতি সৃষ্টিতে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীরা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছে কি করে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, উম্মাহ'র আবেগকে কেন্দ্র করে কি জঘন্য খেলাটাই না খেলছে তারা। blasphemy আইন পাশের দাবিতে এর অন্যায়কারীর নিকট বিচার দাবির নামে মূলা ধরিয়ে দিচ্ছে এই যালিমগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

অথচ যালিমরা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে উম্মাহ'র দাবী। তবুও কি তাদের থেকে বিচার আশা করা যৌক্তিক??

বর্তমানের যালিম শাসকের বিকল্প হিসেবে যদি আমরা কুফরের অপর প্রতিনিধি বি.এন.পিকে সমাধান হিসেবে আঁকড়ে ধরি তবে তাও সমাধান নয়। কারণ, সেও বিচার প্রেক্ষিতে ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করাবে মানবরচিত শাসনব্যবস্থা।
আর বি.এন.পি বা আওয়ামী লীগ কি করে রাসূল(সা)-এর অপমানের বিচার করবে, যখন তারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কুলাঙ্গার আমেরিকার সাথে আঁতাত করে বসে আছে।
আমেরিকা সেই রাস্ট্র, যে বাক-স্বাধীনতার নামে আইন দ্বারা আল্লাহ'র রাসূল(সা)-কে অপমানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করে।
আমেরিকা সেই রাস্ট্র, যে সমগ্র বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ'র উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাস দমনের নামে।
এই আমেরিকাকেই বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে ডেকে আঞ্ছে হাসিনা-খালেদা।

সুতরাং, কেন এইসকল বিক্রি হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছে ধরণা দেওয়া?
কেন এদের কাছে বিচারের আশা করা?

বি.এন.পি বা এরশাদ বা অন্যান্য সকলেই শুধুমাত্র নির্বাচনে ভোটের আশায় এই নাটক সাজাচ্ছে এবং উম্মাহ'র আবেগ নিয়ে খেলা করে যাচ্ছে।

সুতরাং, আদৌ সময় থাকতে সঠিক সমাধান প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন পরিচালনা করুন। নিজস্ব সত্তাকে, নিজস্ব বিশ্বাসকে, নিজস্ব পরিচয় বা দাবিকে বিক্রি করে দিবেন না এইসকল নর্দমার কীটদের কাছে; যারা সস্তামূল্যে উম্মাহ'র আবেগ বিক্রি করে কাফিরদের স্বার্থে.... 

---------Abdullah   Ibn  Amin

গরম খবরঃ আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে ধর্ম তথা ইসলাম অবমাননার মামলা হতে যাচ্ছে। মামলায় বাদী পক্ষের উকিল হিসেবে থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহিলা শায়খুল ইসলাম(!!!) আল্লামা(!!!) ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর।

খারাপ খবরঃ এইগুলো হচ্ছে কেয়ামতের আলামত। এই সব ঘটনাই প্রমাণ করে কেয়ামতের আর বেশী দেরী নাই।

সুখবরঃ আমরা এখন মারা গেলে আমাদেরকে আর বেশী দিন কবরের ভিতর থাকতে হবে না। :P :P (
(Tanvir  Ahmad  Arjel)
 
  হে মুসলিম গণ!!!

এই হাসিনা-খালেদা কখনই ইসলামের ভালো চায় নি। তারা সবসময় বাক স্বাধীনতা,গণতন্ত্র ইত্যাদি কুফরী মতবাদের নামে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদদপুস্ট সব নাস্তিকদের লালন করেছে। তাই আজ আপনাদের এই আন্দোলনকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার হতে দিবেন না। বরং এরাই হচ্ছে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের মদদপুস্ট নাস্তিকদের রক্ষক বা মাওলা। তাই আজ আপনাদের এই আন্দোলন হতে হবে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের মদদপুস্ট হাসিনা-খালেদার বিরুদ্ধে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠার পক্ষে যাতে বাংলার মাটিতে আর কেউ রাসূল(সা) কে অপমান করার সাহস না পায়।

উমার(রা:) বলেন--
''
আল্লাহর শপথ! কোরান দিয়া আল্লাহ যতটুকু রক্ষা প্রতিহত করেন, রাষ্ট্রশক্তির(খিলাফাহ) মাধ্যমে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি রক্ষা প্রতিহত করেন।''
''(
কাঞ্জুল উম্মাল)''
 ---------Ibn  Sarkar  Touhid